আসামিরা জামিনে মুক্তি পেয়ে ফের সোহাগকে প্রাণনাশের হুমকি


BANGLAR NARAYANGANJ | Banglar Narayanganj প্রকাশিত: Jan 18, 2026 আসামিরা জামিনে মুক্তি পেয়ে ফের সোহাগকে প্রাণনাশের হুমকি
অপহরণ মামলার আসামিরা জামিনে মুক্তি পেয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও  মীম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক  মো. সোহাগ।  অজ্ঞাত নম্বর থেকে নিয়মিত হুমকিমূলক ফোন ও ভয়েস মেসেজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের আশঙ্কা এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির ভয় নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি ও তাঁর পরিবার। এ অবস্থায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে ফতুল্লা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।

মো. সোহাগ মীম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জেনারেল গ্রুপের পরিচালক।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১ জুন রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের কলেজ রোড এলাকায় সরকারি তোলারাম কলেজের সামনে থেকে ৫–৬ জন ব্যক্তি তাঁকে জোরপূর্বক অপহরণ করে পটুয়াখালী নিয়ে যান। পরদিন সোমবার (২ জুন) পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর ফেরিঘাট এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী মোসা. তানিয়া আহাম্মেদ বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ মামলার কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে।

জিডি অনুযায়ী, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে ১ নম্বর আসামি আল আমিন ওরফে জিতু অপহরণের পরিকল্পনার বিষয়টি আদালতে স্বীকার করেন।

মামলার আসামিরা হলেন—আল আমিন ওরফে জিতু (৩০), মো. সাকিব হোসেন (২৪), মো. কবির হালদার (৪০), মো. ছাহাদ (২৩) ও ইমরান হোসেন মোহন (৩১)। গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়, জামিনে মুক্তির পর অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী আল আমিন ওরফে জিতুর পরামর্শ ও প্ররোচনায় অন্য আসামিরা মামলা প্রত্যাহারের জন্য মো. সোহাগ ও তাঁর স্ত্রীকে নিয়মিত ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন।

এ ছাড়া আল আমিন ওরফে জিতুর ঘনিষ্ঠ রাশেদুল হক সাজু ও মিজানুর রহমান বিভিন্ন মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ভয়েস মেসেজ পাঠাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব বার্তায় মো. সোহাগের ব্যবসায়িক ছবি এডিট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়।

মো. সোহাগ বলেন, তিনি ও তাঁর পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এভাবে হুমকি অব্যাহত থাকলে তাঁর ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য তিনি ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ও ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মান্নান বলেন, ‘‘বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার।”