বন্দরে ময়না ক্লিনিকে চিকিৎসা অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ


BANGLAR NARAYANGANJ | Banglar Narayanganj প্রকাশিত: Oct 24, 2026 বন্দরে ময়না ক্লিনিকে চিকিৎসা অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ময়না ক্লিনিকে জন্ম নেওয়া এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছে পরিবার। শিশুটির বাবা মো. হোসেন রয়েল (২৮) জানিয়েছেন, ক্লিনিকের মালিক চিকিৎসক ময়না বেগমের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

অভিযোগে রয়েল উল্লেখ করেন, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে প্রসবের জন্য তাঁর স্ত্রীকে আমিন আবাসিক এলাকার স্কুলঘাটসংলগ্ন ময়না ক্লিনিকে ভর্তি করেন। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁদের ছেলেসন্তানের জন্ম হয়।

রয়েলের অভিযোগ, জন্মের পর শিশুটি কান্না করতে থাকলে চিকিৎসক ময়না বেগমকে বিষয়টি জানানো হয়। তবে শিশুটির কোনো সমস্যা নেই বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। শনিবার সকালে কান্না বেড়ে গেলে আবারও ফোনে জানানো হয়। কিন্তু চিকিৎসক ক্লিনিকে এসে শিশুটিকে দেখেননি। নার্সদের চিকিৎসক ডাকার অনুরোধ করেও সাড়া পাননি বলে দাবি করেন রয়েল।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে ময়না বেগমের পরামর্শে ঝাউতলা এলাকার এক চিকিৎসকের কাছে যান। সেখানে চিকিৎসককে না পেয়ে পুনরায় যোগাযোগ করলে তাঁকে ময়না বেগমের ব্যক্তিগত চেম্বারে এবং পরে ফরাজীকান্দা এলাকার আরেক চিকিৎসকের কাছে যেতে বলা হয়। এসব জায়গায় ঘুরেও শিশুটির চিকিৎসা পাননি বলে দাবি তাঁর।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে শিশুটিকে আবার ময়না ক্লিনিকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। ময়না বেগম ফোনে নার্সদের শিশুটিকে অক্সিজেন দেওয়ার নির্দেশ দেন। অক্সিজেন দেওয়ার পর কান্না বন্ধ হয়ে গেলে রয়েল উদ্বিগ্ন হয়ে বিষয়টি জানান। তখন শিশুটিকে দ্রুত মাতুয়াইল হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।


রয়েলের দাবি, শনিবার দুপুর ১টার দিকে মাতুয়াইল হাসপাতালে পৌঁছালে সেখানকার চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন এবং প্রায় এক ঘণ্টা আগে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান।

অভিযোগের বিষয়ে ক্লিনিকের প্রতিনিধি কাউছার বলেন, “শিশুটি মারা যাওয়ার আগে সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল। আমরা তাকে যথেষ্ট চিকিৎসা দিয়েছি। পরিবারকে মায়ের বুকের দুধ ছাড়া অন্য কোনো খাবার দিতে বারণ করেছিলাম। কী কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।”

বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আলাউল কবির দিপু জানান, সিভিল সার্জনের নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সিভিল সার্জনের কল পেয়ে এসেছি। তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে তদন্ত করা হয়েছে। যতটুকু শুনলাম, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কিছুটা অবহেলা আছে।”

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”