পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ


BANGLAR NARAYANGANJ | Banglar Narayanganj প্রকাশিত: Nov 3, 2026 পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে পুলিশের সঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেছে। এতে পুলিশ সহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে পৌনে ৫ টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সিদ্ধিরগঞ্জ জালকুড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৩টার দিকে হঠাৎ করে লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা ব্যারিকেড দিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করলেও তা ভেঙে শ্রমিকরা মূল সড়কে নেমে আন্দোলন করে। সড়কের কোথাও কোথাও আগুন জ্বালিয়ে লাঠি হাতে নানা স্লোগান দেয় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এতে আশেপাশে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় শ্রমিকদের শান্ত করা চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকরা। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সদস্যরা লাঠি চার্জ করে ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের একজন সদস্য সহ বেশ কয়েকজন পোশাক শ্রমিক আহত হয়েছে। তবে আহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের জেলার সভাপতি মো. শাহিন আহমেদ বলেন, ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে শ্রমিকরা গতকাল সড়ক অবরোধ করেছিল। শ্রমিকদের দাবি পূরণ না হওয়ার আজ দ্বিতীয় দিনের মত ফের সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছে। তবে আহতের বিষয়ে আমার জানা নেই।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁরে মেরেছে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার সেল নিক্ষেপ করেছে।

এর আগে সোমবার একই দাবিতে পোশাকশ্রমিকরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করেছিলেন। গতকাল দুপুর থেকে প্রায় প্রায় চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। বিকাল সোয়া ৪টার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের আশ্বাসে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন। তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

গতকাল শ্রমিকদের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছিল। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, সব পোশাক কারখানায় রেশনিং ব্যবস্থা চালু, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার বাস্তবায়ন, শ্রমিক আমজাদ হোসেন কামালসহ নিহত শ্রমিকদের হত্যার বিচার এবং বিনা কারণে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ ও শ্রম আইন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন।

আজ সকালে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি বিসিক শিল্পনগরী ও সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডে কারখানাগুলোয় স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছিল। শ্রমিকরাও কাজে যোগ দিয়েছিলেন। তবে বিকাল সোয়া ৩টার দিকে কাঠেরপুল এলাকায় নতুন করে শ্রমিকরা সড়কে নেমে আসায় পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

গতকাল শ্রমিকদের অবরোধের পর নিরাপত্তা জোরদার করতে জেলায় পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের কথা জানিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক রায়হান কবির। এর মধ্যে তিন প্লাটুন রিজার্ভ এবং দুই প্লাটুন টহলে ছিল। আজকের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছেন।