শ্রমিক আন্দোলন শান্ত করতে রাজপথে ছিলেন আজাদ-রিয়াদ-আশা


BANGLAR NARAYANGANJ | Banglar Narayanganj প্রকাশিত: Nov 3, 2026 শ্রমিক আন্দোলন শান্ত করতে রাজপথে ছিলেন আজাদ-রিয়াদ-আশা
স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও ভাঙচুরের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিনভর মাঠে সক্রিয় ছিলেন বিএনপির স্থানীয় নেতারা। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের শান্ত করা এবং আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে চেষ্টা করেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা। 

পরে দুপুরে শ্রমিকেরা আন্দোলনে নামার চেষ্টা করলে শিবু মার্কেট এলাকার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন আশা ও ফতুল্লা থানা বিএনপির নেতা রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী। এ সময় তারা শ্রমিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

একপর্যায়ে কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। 

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিকেলে আলাদা আলাদাভাবে ঘটনাস্থলে যান নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ। তারা আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। 

এ সময় আজাদ শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। আলোচনার মাধ্যমে তাদের ন্যায্য দাবি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কারও উসকানিতে না পড়ে শান্ত থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

এর আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আলোচনা শেষে শ্রমিক আন্দোলনে উসকানিদাতাদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কথা জানিয়ে নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, আন্দোলনের আড়ালে কেউ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা নাশকতার চেষ্টা করলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এ ছাড়া পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল।

শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন একপর্যায়ে সড়ক অবরোধ ও সহিংসতার ঘটনায় রূপ নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এ অবস্থায় বিএনপির নেতাদের মাঠে উপস্থিতি ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা ছিল পরিস্থিতি শান্ত রাখার প্রচেষ্টার অংশ।