‘রহস্যজটে’ ঘেরা জহির হত্যা মামলা
BANGLAR NARAYANGANJ | Banglar Narayanganj প্রকাশিত: Oct 27, 2026
স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতা জহিরুল ইসলাম জহির ওরফে জহির ফকির হত্যা মামলায় রহস্যজনক কারণে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোবারক হোসেনের নাম আসেনি। অথচ হত্যাকাণ্ডের প্রথম থেকে মামলার বাদী ও নিহতের স্বজনরা এই মোবারক হোসেনকে দায়ী করে আসছিলেন। তাহলে কেন তার নাম বাদ দিয়ে মামলা করা হলো। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাছাড়া হত্যার ঘটনার তিনদিন পর কেন মামলা রুজু করা হলো, এসব নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। এসব বিষয়ে কথা বলতে চাইলে মুঠোফোনে আপাতত কোন কথা বলতে রাজি হননি মামলার বাদী। এতে করে রহস্য আরও ঘনীভ‚ত হয়েছে।
এদিকে মামলার এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি কবির হোসেনকে (৬০) কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে কক্সবাজারের কলাতলী বিচ এলাকায় এসআরবি-১১ ও এসআরবি-১৫ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার কবির হোসেন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খালিয়ারচর এলাকার মৃত মোমতাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি এ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি।
এর আগে, গত ২১ অক্টোবর রাতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বাড়ি ফেরার পথে যুবদল নেতা জহিরুল ইসলাম জহির ওরফে জহির ফকিরকে (৪৫) কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
এ ঘটনার পরে নিহতের স্বজন সহ মামলার বাদী ও নিহতের ভাগনে ইসমাইল হোসেন হত্যার জন্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোবারক হোসেনকে দায়ী করে আসছিল।
হত্যার কারণ উল্লেখ করে বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জহিরুল ইসলাম আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ায় প্রতিপক্ষের মোবারক হোসেন সহ কয়েকজন তাঁকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। তাঁকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি মোটা অঙ্কের চাঁদাও দাবি করা হয়েছিল। এসব কারণে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
তবে এ হত্যার ঘটনার মামলায় রহস্যজনক কারণে সেই মোবারক হোসেনের নাম নেই। এছাড়া হত্যাকাÐের তিন দিন পর ২৪ অক্টোবর সোনারগাঁ থানায় ২১ জন নামীয় আসামি সহ অজ্ঞাত আরও ৮-১০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন- আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রিজভী। যিনি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব ও চেয়ারম্যান প্রার্থী মোবারক হোসাইনের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- হায়াতুজ্জামান পিয়ার, কবির হোসেন, আমজাদ হোসেন, মহসিন, জামীর, আনোয়ার হোসেন, সোহাগ মিয়া, রাজিব মিয়া, সেন্টু মিয়া, দেলোয়ার হোসেন, শেখ ফরিদ, মজি মিয়া, মজিদ মিয়া, কাউসার মিয়া, ফয়সাল, এরশাদ মিয়া, মাসুম মিয়া, ইসমাইল হোসেন, তোফাজ্জল, কামাল। তারা সবাই আড়াইহাজার উপজেলার খালিয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জহিরুল ইসলাম আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ায় প্রতিপক্ষের কয়েকজন তাঁকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। তাঁকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি মোটা অঙ্কের চাঁদাও দাবি করা হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় আড়াইহাজারের পুরোনো থানা-সংলগ্ন সিএনজি স্ট্যান্ডে জহিরুলের ওপর রিজভী ও তাঁর লোকজন হামলা চালায়। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ওই বছরের ২৯ নভেম্বর আড়াইহাজার থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আগের ওই মামলার আসামিদের পাশাপাশি অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিরাও জহিরুল ইসলামকে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এ কারণে তিনি গ্রামের বাড়িতে না থেকে সোনারগাঁয়ের চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় বসবাস করে ব্যবসা করতেন। মাঝেমধ্যে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতার বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করতেন। এতে রিজভীসহ আসামিরা তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
হত্যার বর্ণনা দিয়ে উল্লেখ করা হয়, গত বুধবার রাতে ফার্মেসি বন্ধ করে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন জহিরুল। রাত সাড়ে আটটার দিকে চর হোগলা এলাকার কাশেমনগরে দারুস সুন্নাহ খালেদ সিদ্দিকী মডেল মাদ্রাসার কাছে একটি কাঁচা রাস্তায় পৌঁছালে রিজভীর নেতৃত্বে ২১ জন এজাহারভুক্ত আসামি ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাঁর পথরোধ করেন। তাঁদের হাতে থাকা চাপাতি, রামদা, ছুরি, দা, লোহার রড, লাঠিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জহিরুলকে এলোপাতাড়ি কোপায় এবং লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। এ সময় তাঁকে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে রেখে তাঁরা পালিয়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, যুবদল নেতা জহিরুল হত্যার ঘটনায় ২১ জনের নামে মামলা হয়েছে। এদের মধ্যে ছাত্রদল নেতাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলায় কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোবারক হোসেনের নাম না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলার বাদী যাদের নাম দিয়েছে তাদেরকে আসামি করা হয়েছে। এরপরও তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার বাদীকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে মামলার বাদী ইসমাইল বলেন, এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত রয়েছে এবং যাদের নিয়ে শঙ্কা রয়েছে তদন্তে নিশ্চই তাদের নাম উঠে আসবে।
মামলায় মোবারক হোসেনের নাম না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি ফোনে কোন কথা বলবো না। সরাসরি দেখা হলে কথা বলবো।
এছাড়া হত্যাকাÐের তিনদিন পর মামলা কেন হয়েছে- সে প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, আপনার সাথে সরাসরি দেখা হলে এ বিষয়ে সব কথা বলবো।
box 9 বিভাগের আরো খবর
-
বন্ড সুতার সিন্ডিকেটে নাজেহাল ব্যবসায়ীরা
-
প্রকাশ্যে গুলি করে শীর্ষ সন্ত্রাসীকে হত্যার অভিযোগ
-
শহরে হকার উচ্ছেদে গিয়ে তোপের মুখে সাখাওয়াত
-
রূপগঞ্জে পূর্বাচল রিজেন্ট টাউনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন
-
শারদীয় দুর্গোৎসব পারস্পরিক সৌহার্দ্য বন্ধন : দিদার খন্দকার
-
পেশিশক্তি প্রদর্শনের অভিযোগে বহিষ্কৃত দুই নেতা ফিরছেন যুবদলে
-
রেড ক্রিসেন্ট নির্বাচনে নিরব রায়হানের দুই পদে মনোনয়ন সংগ্রহ
-
জাকির খান আমাকে কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন : দিদার খন্দকার
-
অটোরিকশা স্ট্যান্ড দখল নিয়ে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, আহত ১৫
-
রেড ক্রিসেন্ট নির্বাচনে নবী-টিপু প্যানেলের ৭ সদস্যের তালিকা জমা
-
প্রকাশ্যে গুলি করে শীর্ষ সন্ত্রাসীকে হত্যার অভিযোগ
-
রূপগঞ্জে পূর্বাচল রিজেন্ট টাউনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন
-
শারদীয় দুর্গোৎসব পারস্পরিক সৌহার্দ্য বন্ধন : দিদার খন্দকার
-
রেড ক্রিসেন্ট নির্বাচনে নিরব রায়হানের দুই পদে মনোনয়ন সংগ্রহ
-
অটোরিকশা স্ট্যান্ড দখল নিয়ে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, আহত ১৫
-
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে প্ররোচনার মামলা, স্বামী কারাগারে
-
দেওভোগে গ্যাস বিস্ফোরণে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুতে দিদারের আর্থিক সহায়তা
-
মেঘনায় অবৈধ বালু উত্তোলনে ড্রেজার জব্দ, গ্রেপ্তার ২
-
বন্দরে ময়না ক্লিনিকে চিকিৎসা অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ
-
বন্দরে মাকসুদা হত্যা মামলার মাস্টার মাইন্ড সামাউল অধরা
আপনার মতামত লিখুন :