অতিরিক্ত হারে টোল নিতাইগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে : মোহাম্মদ সোহাগ


BANGLAR NARAYANGANJ | Banglar Narayanganj প্রকাশিত: Aug 12, 2026 অতিরিক্ত হারে টোল নিতাইগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে : মোহাম্মদ সোহাগ
নারায়ণগঞ্জ আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫০ কেজি ওজনের একটি বস্তা উত্তোলনের ক্ষেত্রে ঘাটের টোল ছিল ৫ টাকা। বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৯ টাকা করার জন্য সংশ্লিষ্ট ইজারাদারের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চিঠিদাতা সাবেক ইজারাদারের ইজারার মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষ হয়ে গেছে। এরপরও আদালতে মামলা করে ‘খাস কালেকশন’-এর নামে ঘাটে টোল আদায় করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির কার্যালয়ে সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। 

সভায় সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈধ ইজারা থাকে, তাহলে তাকে ইজারার কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ঘাটের টোলের হার বৃদ্ধি করার অধিকার কারও নেই। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত হারের তুলনায় অতিরিক্ত হারে টোল আদায় করা হলে নিতাইগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত টোলের কারণে ছোট ছোট নৌযানে করে নিতাইগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে পণ্য পরিবহন কার্যত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং অনেক নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি নৌকার মাঝিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হয়রানির অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।

সভায় জানানো হয়, বর্তমানে যারা ঘাটের টোল আদায় করছেন, তারা মূলত গতবারের ইজারাদার ছিলেন। চলতি অর্থবছরে বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে ঘাটের ইজারা মেসার্স নিজাম এন্টারপ্রাইজকে দেওয়া হয়েছে। তবে সাবেক ইজারাদার নিম্ন আদালতে মামলা করায় বর্তমানে তারা ‘খাস কালেকশন’-এর মাধ্যমে টোল আদায় করছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এর ফলে বৈধভাবে ইজারা পাওয়া মেসার্স নিজাম এন্টারপ্রাইজ এবং সরকার উভয়ই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে নৌকার মাঝিদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল আদায়ে বাধ্য করা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির অভিযোগও তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা। জাহাজের বার্থিং বাবদও অতিরিক্ত হারে অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

সভায় আরও জানানো হয়, বিভিন্ন নৌকার মাঝি ও জাহাজের স্টাফরা এ বিষয়ে নিতাইগঞ্জের সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছে অভিযোগ করছেন। অতিরিক্ত টোল আদায় অব্যাহত থাকলে নিতাইগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন নেতৃবৃন্দ।

এছাড়া সভায় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল আলীসহ কার্যকরী কমিটির সদস্য ও অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় নিতাইগঞ্জে পণ্য পরিবহন, বিশেষ করে নৌপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ঘাটের টোল বৃদ্ধি নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, মাছুয়া বাজার কালেকশন রাইট এবং নিতাইগঞ্জ লেবার হ্যান্ডলিং-সংক্রান্ত ঘাটগুলোতে এভাবে টোল আদায় করা হচ্ছে। তাদের দাবি, ঘাটের ইজারা ও টোলের হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত হার অনুসরণ করা উচিত। অথচ বর্তমানে যে হারে টোল আদায়ের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে, তা আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

আলোচনা সভায় নিতাইগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থে ঘাটের টোল আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বৈধ ইজারার কাগজপত্র যাচাই করা এবং অনুমোদিত হারের বাইরে অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। একই সঙ্গে নৌপথে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধের দাবি জানান আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ।